ব্রেস্ট ক্যান্সার(Breast Cancer) কী? এটি হওয়ার কারণ এবং প্রতিরোধ করার উপায় কি ?

0
ব্রেস্ট ক্যান্সার কী? কী কী কারণে ব্রেস্ট ক্যান্সার হতে পারে ? ঔষধ ছাড়া কীভাবে ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায়? কাদের ব্রেস্ট ক্যঅন্সার হয়ে থাকে? স্তনে ফুসকড়ি দেখা যায় কেন? ইত্যাদি বিষয় নিয়ে থাকছে আজকের এই লেখাটি।


ব্রেস্ট ক্যান্সার কী? কী কী কারণে ব্রেস্ট ক্যান্সার হতে পারে ? ঔষধ ছাড়া কীভাবে ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায়?

ছবি:সংগৃহিত

বর্তমান বিশ্বের প্রায় অধিকাংশ মানুষই ব্রেস্ট ক্যান্সার সম্পর্কে শুনে থাকবেন। প্রতিনিয়তই এই ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর সমস্ত বিশ্বজুড়ে প্রায় দশমিক মিলিয়ন নারী ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। বাংলাদেশে অন্যান্য ক্যান্সারের তুলনায় ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে যে, আমাদের দেশে প্রতি মিনিটে একজন নারী ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন এবং প্রতি ১১ মিনিটে একজন ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত নারী মৃত্যুবরণ করেন।

তাই নারীদের জন্য এই সম্পর্কে সতর্ক হওয়া খিুবই জরুরী। আর ব্রেস্ট ক্যান্সার বা স্তন ক্যান্সার হলে যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে এবং আর যাতে এই রোগ আক্রান্ত করতে না পারে সেই জন্য জীবন মান পরিবর্তন করতে হবে।

এখানে যা যা আলোচনা করা হবে-

  •   ব্রেস্ট ক্যান্সার কী?
  •   কাদের ব্রেস্ট ক্যান্সার হয়ে থাকে?
  •   ব্রেস্ট ক্যান্সার কী কারণে হয়ে থাকে বা কারণগুলো কি কি?
  •   ব্রেস্ট ক্যান্সার নির্ণয়ে কোন ধরনের পরীক্ষা করা হয়?
  •   ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে প্রতিকারের উপায়গুলো কী কী?
  •   ঔষধ ছাড়া কীভাবে ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায়?


ব্রেস্ট ক্যান্সার কী? What is Breast Cancer?

স্তন ক্যান্সারের ইংরেজি নাম হল Breast Cancer. যখন স্তনের ভিতরের কোষগুলো অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে তখন স্তন ক্যান্সার বা Breast cancer সৃষ্টি হয়। কিছু কোষ যখন স্তনের ভিতরে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়  তখন এই অনিয়মিত অতিরিক্ত কোষগুলো বিভাজনের মাধ্যমে একটি শক্ত পিন্ড বা টিউমারে পরিণত হয়। 

যখন এই টিউমার কোষ রস অথবা রক্তনালির লসিকা সহ শরীরের বিভিন্ন ধরনের স্থানে ছড়িয়ে পড়ে তখন ব্রেস্ট ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। সাধারণত বাংলাদেশে নারীদের ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে অথবা ৪০ বছরের পর ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। 


আরো জানুন:

গর্ভাবস্থায় কি খেলে সন্তান বুদ্ধিমান ও মেধাবি হবে?

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস কি? নিয়ন্ত্রণ করবেন কিভাবে?

অনিয়মিত মাসিক হয় কেন? কখন ডাক্তার দেখা জরুরী?

জরায়ু ক্যান্সার কি? কোন কোন লক্ষণ দেখলে সাবধঅন হতে হবে?

মানসিক চাপ কি? কেন এটি নিয়ন্ত্রন করা জরুরী?


কাদের ব্রেস্ট ক্যান্সার হয়ে থাকে? 

ব্রেস্ট ক্যান্সার যে শুধুমাত্র নারীদের হবে এমনটি কিন্তু নয়। নারী এবং পুরুষ উভয়েরই ব্রেস্ট ক্যান্সার হতে পারে। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার হার এবং মৃত্যুহার পুরুষের তুলনায় বেশি। 

আমেরিকার পরিসংখ্যান হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ২৫০,০০০ এরও বেশি নারী ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় এবং পুরুষের ক্ষেত্রে প্রতি বছর এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা মাত্র ২৩০০ জন। বাংলাদেশে ক্যান্সারে আক্রান্তের হার এবং ক্যান্সারে মৃত্যুর হারের দিক দিয়ে ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রথম স্থানে রয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে যে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১৫ হাজার নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন এবং প্রায় হাজারের মতো নারী ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।


ব্রেস্ট ক্যান্সার কী কারণে হয়ে থাকে বা কারণগুলো কি কি? 

ব্রেস্ট ক্যান্সার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কারণে হয়ে থাকে। কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলোঃ 

ব্রেস্ট ক্যান্সার কী কারণে হয়ে থাকে বা কারণগুলো কি কি?
ছবি :সংগৃহিত


জীবনযাত্রার পরিবর্তন : 

জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে মূলত ব্রেস্ট ক্যান্সার হয়ে থাকে এমনটিই চিকিৎসক গবেষকরা। নারীদের ক্ষেত্রে দৈনন্দিন জীবনযাপনে পরিবর্তন বেশি হওয়ার কারণে তাদের এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বেশি দেখা যায়। 


সচেতনতার অভাব :

সাংসারিক জীবনে ব্যস্ত থাকার কারণে নারীরা নিজেদের শরীরের প্রতি সচেতন থাকেন না। সচেতনতার অভাবের কারণে রোগ-ব্যাধি হলে তারা গুরুত্ব দেন না।

 

ব্যায়াম শরীরচর্চার অভাব :

আজকাল অধিকাংশ মানুষই মোবাইল ফোন, টিভি সহ বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল ডিভাইসের উপর আসক্ত হয়ে পড়েছে। সে জন্য শারীরিক পরিশ্রম কম হয়। নারীদের ক্ষেত্রে এমনটা বেশি দেখা যায়। এর ফলে নারীরা অতিরিক্ত স্থূলতায় ভুগতে থাকে। Breast Cancer এর অন্যতম কারণ হল অতিরিক্ত স্থূলতা।


জাঙ্ক ফুড :

আজকাল আমরা সুষম খাবার বাদ দিয়ে প্রচুর Fast food খাচ্ছি। এর ফলে আমাদের পুষ্টির অভাব ঠিকমত পূরণ হচ্ছে না। রকম হলে ব্রেস্ট ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।


সন্তান দেরিতে নেওয়া :  

আজকাল অধিকাংশ নারীরাই সন্তান দেরিতে নিয়ে থাকেন। অধিকাংশ নারীই ৩০ বছরের উর্ধ্বে গিয়ে সন্তান নিতে চান। দেরিতে সন্তান নিলে শরীরে নানা ধরনের জটিল রোগ দেখা যায়। রকম হলে এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। 


শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে অনীহা প্রকাশ করা : 

আজকাল অধিকাংশ মায়েরাই শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে চান না বা যারা চাকরি করেন তারা সময়ের অভাবে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারেন না। সমস্ত নারীদের ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।


বগলে চাকা চাকা দাগ দেখা দেয়া :

বগলে যদি চাকা চাকা দাগ দেখা দেয় তাহলে ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 

জন্মনিয়ন্ত্রক পিল : 

কোন নারী যদি গর্ভনিরোধক ওষুধ বা জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল দীর্ঘদিন ধরে সেবন করে থাকেন তাহলে তার ব্রেস্ট ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

অ্যালকোহল গ্রহণ :  

অ্যালকোহল বা মদ্যপান করার ফলে ব্রেস্ট ক্যান্সার হয়ে থাকে।

আপনি ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত কি না তা কিভাবে বুঝবেন?

সাধারণত ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যায়।


স্তন অথবা বগলের নিচে শক্ত পিন্ড তৈরী হওয়া :

ব্রেস্ট ক্যান্সার হলে স্তনের ভিতরে অথবা বগলের নিচে চাকা চাকা দাগ দেখা যায় অথবা শক্ত পিন্ডের মত তৈরি করে। এই পিন্ড যদি শক্ত হয়ে থাকে এবং সহজে যদি তার অবস্থান পরিবর্তন না করে তাহলে স্তন ক্যান্সার বা ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। রকম হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।


অস্বাভাবিকভাবে স্তন ফুলে যাওয়া :

যদি স্তনের কোন অংশ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায় অথবা স্তন অনুভব হলে ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 


স্তনে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া :

সাধারণত ব্রেস্ট ক্যান্সার হলে স্তনের চামড়ার বর্ণ লালচে হয়ে যায় অথবা ফুসকুড়ি দেখা দিয়ে থাকে । 


স্তনের আকার পরিবর্তন হওয়া : 

ব্রেস্ট ক্যান্সার হলে সাধারণত স্তনের আকার আকৃতির পরিবর্তন হয়ে থাকে।

 

স্তনের চামড়া ভেতরে ঢুকে যাওয়া :

যদি স্তনের চামড়া গর্তের মতো ভেতরের দিকে ঢুকে যায় তাহলে এটি ব্রেস্ট ক্যান্সারের একটি অন্যতম লক্ষণ।


স্তনবৃন্ত ভেতরে ঢুকে যাওয়া :

এই ক্যান্সার হলে স্তনবৃন্ত ভেতরের দিকে ঢুকে যেতে পারে।


স্তনবৃন্ত দিয়ে রক্ত পড়া :   

ব্রেস্ট ক্যান্সার হলে স্তনবৃন্ত দিয়ে রক্ত পড়ে বা তরল জাতীয় পদার্থ বের হতে থাকে।


ব্রেস্ট ক্যান্সার নির্ণয়ে কোন ধরনের পরীক্ষা করা হয়?

রোগীর ক্যান্সারের লক্ষণ এবং বয়সের সাথে সামঞ্জস্য রেখে চিকিৎসকরা নিচের পরীক্ষাগুলোর মাধ্যম ব্রেস্ট ক্যান্সার শনাক্ত করেন।

*ম্যামোগ্রাফি

*আলট্রাসনোগ্রাফি

*FNAC

*MRI

*বায়োপসি, প্রভৃতি। 


ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে প্রতিকারের উপায়গুলো কী কী?

সাধারণত ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে চিকিৎসকরা নিচের পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করে চিকিৎসা করে থাকেন।

সার্জারি :

সার্জারি হল ব্রেস্ট ক্যান্সার চিকিৎসা পদ্ধতির প্রথম ধাপ। এই ক্যান্সার প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে স্তনের ভিতর থেকে টিউমার সার্জারি করে বের করে নিয়ে আসেন চিকিৎসকরা।

Lumpectomy (লাম্পেক্টোমি):

সাধারণত টিউমার যদি আকারে ছোট হয় তাহলে চিকিৎসকরা এই অপারেশন করে থাকেন। এই পদ্ধতিতে টিউমার এবং এর আশেপাশের কিছু টিস্যু কেটে নিয়ে অপারেশন করা হয়।

Mastectomy (মাস্টেক্টোমি):

চিকিৎসকরা এই অপারেশনে রোগীর সম্পূর্ণ স্তন কেটে ফেলে থাকেন এবং বগলের লসিকাগ্রন্থি, স্তনের নিচের মাংসপেশিসহ আনুষঙ্গিক আক্রান্ত টিস্যু কেটে ফেলে দেয়া হয়।

রেডিও থেরাপি:

সাধারণত এই পদ্ধতিতে একটি বড় মেশিন এর সাহায্যে তেজস্ক্রিয় রশ্মি শরীরের দিকে প্রয়োগ করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করা হয়। এছাড়াও শরীরের ভেতর তেজস্ক্রিয় পদার্থ স্থাপন করেও ডাক্তাররা চিকিৎসা করে থাকেন।

কেমোথেরাপি:

কেমোথেরাপি দেয়ার ফলে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস হয়। এটি ক্যান্সার কোষ ধ্বংসে ওষুধ হিসেবে কাজ করে। ক্যান্সার যাতে পুনরায় না হয় এবং পুরো শরীরে ছড়িয়ে না পড়ে এজন্য চিকিৎসকরা কেমোথেরাপি দিয়ে থাকেন। টিউমার যদি বেশি বড় হয়ে যায় তখন সার্জারি করার আগে টিউমারের সাইজ ছোট করার চেষ্টা করেন চিকিৎসকরা। কেমোথেরাপি দেয়ার ফলে পুনরায় ক্যান্সার সৃষ্টির আশঙ্কা অনেকাংশে কমে যায়।


ঔষধ ছাড়া কীভাবে ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায়?

নিচের নিয়মগুলো ঠিকমত অনুসরণ করলে ঔষধ ছাড়াই ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকাংশেই কমানো সম্ভব হতে পারে।

সচেতনতা বৃদ্ধি করা : 

ব্রেস্ট ক্যান্সার মূলত জীবনযাত্রার পরিবর্তন সচেতনতা অভাবে হয়ে থাকে। অধিকাংশ নারীরাই পরিবারের খেয়াল রাখতে গিয়েই অধিক সময় পার করে দেন এর ফলে নিজেদের শরীরের প্রতি সচেতন থাকেন না। শরীরে কোন রোগ দেখা দিলে তারা সেটা গুরুত্ব সহকারে দেখেন না বা লজ্জায় বলতে চান না। এজন্য সবার প্রথমে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এমনটি চিকিৎসকরা বলেছেন।


দৈনন্দিন শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তোলা :

যারা দৈনন্দিন ব্যায়াম এবং শরীরচর্চা করেন তাদের ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। এজন্য প্রতিদিন প্রায় ৩০-৪০ মিনিট শারীরিক ব্যায়াম করা উচিত। এবং সেই সাথে এক জায়গায় দীর্ঘ সময় বসে না থেকে বেশি বেশি করে শারীরিক পরিশ্রম করা উচিত। এর ফলে আমাদের শরীরে রক্ত চলাচল ঠিক থাকে


শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা :

নারীদের ব্রেস্ট ক্যান্সার হওয়ার অন্যতম কারণ হল শরীরের ওজন অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়া। এজন্য শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশেই কমানো সম্ভব। তাই যে সব খাবার খেলে শরীরের ওজন বৃদ্ধি পায় সে সব খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। অতিরিক্ত তেল-চর্বিজাতীয় খাবার,  জাঙ্ক ফুড খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে।


আঁশজাতীয় খাবার গ্রহণ করা :

ব্রেস্ট ক্যান্সার অথবা যে কোন ক্যান্সার প্রতিরোধে আঁশজাতীয় খাবার অনেক উপকারী। এই খাবারে এস্ট্রোজেন থাকে যা ক্যান্সার সৃষ্টির প্রবণতা কমাতে সাহায্য করে। সবুজ শাক সবজি যেমনঃ ডাটা শাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মটরশুঁটি, টাটকা ফলমূল বেশি করে খেতে হবে। এছাড়াও নিয়মিত পেঁয়াজ, রসুন খেতে পারেন। পেঁয়াজ, রসুন ক্যান্সার প্রতিরোধে অধিক কার্যকরী এবং এগুলো কাঁচা খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়।


শিশুকে বুকের দুধ পান করানো :

নারীদের ব্রেস্ট ক্যান্সার হওয়ার অন্যতম কারণ হল তারা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে চান না। তাই ক্যান্সারের হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে শিশুকে নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়াতে হবে।


মিষ্টিজাতীয় খাবার পরিহার করা:

ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে গেলে সবার আগেই চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ চিনি ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এজন্য চিনিজাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে।


গ্রিনটি পান করা :

গ্রিনটি ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে অনেক কার্যকরী। গ্রিনটিতে ইজিসিজি নামক এক ধরনের উপাদান থাকে এটি ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি বন্ধ করতে সাহায্য করে।


ভালো ফ্যাট গ্রহণ করা :

Omega-3 fatty acid সমৃদ্ধ খাবার ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। মাছের তেল খাওয়া ভালো। এতে Omega-3 fatty acid আছে।


ধূমপান এবং মদ্যপান ত্যাগ করা : 

যারা নিয়মিত ধূমপান এবং মদ্যপান করেন তাদের ক্ষেত্রে ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। এজন্য ধূমপান এবং মদ্যপান করা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে। এবং ধূমপানীয় ব্যক্তি থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে।

 

শেষকথাঃ

সাধারণত ২০ বছরের পর থেকে এই ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই বয়স ২০ বছর হলেই  বা এর আগের থেকেই আমাদের নিজেদের প্রতি সর্তক হতে হবে। সময় থেকেই প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট সময়ে স্তন পরীক্ষা করতে হবে। সাধারণত পিরিয়ড শুরুর - দিন পর এই পরীক্ষা করতে হবে। 

এই পরীক্ষা নিজেরাই করা যায় ঘরে বসে স্তনে কোন চাকা বা দলার মত আছে কিনা তা ভালভাবে দেখতে হবে। রকম দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। কারণ প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে এই রোগ সহজেই প্রতিরোধ করা যায়। 

কিন্তু প্রথমে যদি গুরুত্ব না দিয়ে এই বিষয়গুলো এড়িয়ে যান তাহলে এই ক্যান্সারের জীবাণু পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। এর ফলে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।

 

আরো যে বিষয়গুলো পড়তে পারেন-

নিয়মিত ব্যায়াম করলে কি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং যৌন শক্তি বাড়ে?

ত্বকের যত্ন নিবেন কিভঅবে? উজ্বলতা বাড়ানোর উপায়গুলো কি কি?

চুল পড়া বন্ধ করে যে ১০ টি খাবার

হাইপার টেনশন কি? কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন?


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
Top