জেনে নিন-মাসিকের সময় অতিরিক্ত ব্যাথা হলে করণীয়

0

 

মাসিকের সময় পেটে ব্যথা হলে করণীয় কী ? সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন

 

Severe abdominal pain during period
     মাসিকের সময় অতিরিক্ত ব্যাথা:ছবি সংগৃহিত

একজন নারীর জীবনে পিরিয়ড বা মাসিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। সময় তাদের শরীরে খুবই কমন কিছু শারীরিক সমস্যা যেমন : দুর্বলতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, মেজাজ খিটখিটে প্রভৃতি প্রকাশ পাওয়ার সাথে সাথে তলপেটে ব্যথা, পিঠে ব্যথা দেখা দেয়। তবে এই যন্ত্রণা বা ব্যথা আবার সবার ক্ষেত্রে সমান হয় না। অর্থাৎ কোন নারীর ক্ষেত্রে এই সব লক্ষণ গুলো মাত্রাতিরিক্ত হয় না আবার কোন নারীর ক্ষেত্রে পেটে ব্যথার তীব্রতা মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যায়। অধিকাংশ নারীরাই পিরিয়ডের এই অসম্ভব যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তখন এর থেকে মুক্তি পেতে ওষুধ খেয়ে থাকেন। তবে এই সব ওষুধের আবার সাইড ইফেক্ট আছে।  যা উল্টো আপনার শরীরের ক্ষতি করতে পারে। আর এই ঔষধ খেলে এই ব্যথা থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া যায় না শুধুমাত্র অল্প সময়ের জন্য আরাম পাওয়া যায়। কিন্তু এই সব ব্যথার ওষুধ সেবন করার বদলে পিরিয়ডের সময় পেটে ব্যথা দূর করার জন্য যদি আপনি হলে কিছু ঘরোয়া টোটকা অনুসরণ করেন তাহলে কোন পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া ছাড়াই সহজে পিরিয়ডের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

এখন আসুন আমরা মাসিক চলাকালীন সময়ের পেটে ব্যথা কমাতে করণীয় কাজ গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই,

মাসিকের সময়ের পেটে ব্যথা কমাতে করণীয় 

মাসিক চলাকালীন সময়ের পেটে ব্যথা কমাতে করণীয় কাজ গুলো সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো

মাসিকের সময়ের পেটে ব্যথা কমাতে করণীয়
        মাসিকের সময়ের পেটে ব্যথা:ছবি সংগৃহিত

মানসিক চাপ মুক্ত থাকা :

মাসিক চলাকালীন নিজেকে সুস্থ রাখতে আপনি সর্বপ্রথম যে কাজটি করবেন সেটা হল নিজেকে মানসিক চাপ মুক্ত রাখার চেষ্টা করবেন। এতে করে আপনার মাসিক কালীন ক্লান্তি, অবসাদ, দূর্বলতা প্রভৃতি আসবে না। এর ফলে আপনার পেটে ব্যথা কম হবে।  তাই মাসিকের সময়ে অবশ্যই নিজেকে মানসিক চাপ মুক্ত রাখার চেষ্টা করবেন। 

আদা :

আদা বহু গুণে গুণান্বিত একটি খাবার। ঋতুস্রাবের জ্বালা-যন্ত্রণা থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে আদার রস খুবই কার্যকরী। এটি আপনার ঋতুস্রাবের সময়ে হওয়া পেটের ব্যথা কমাতে সাহায্য করবেই এছাড়াও এই রস খেলে আপনার শরীরে যদি অন্য কোন ব্যথা থাকে সেগুলো দূর হয়ে যাবে। আপনার যদি আদার রস খেতে ইচ্ছা না করে তাহলে চা এর সাথে আদা দিয়ে আদা চা পান করতে পারেন। এতে বেশ ভালো উপকার পাওয়া যায়। কিংবা আপনি পানি গরম করে পানিতে মধু চিনি যোগ করে তার সঙ্গে এক টুকরো আদা নিয়ে মিশ্রণ বানিয়ে মিশ্রণটি পান করুন। এভাবে দিনে তিন-চারবার মিশ্রণটি পান করুন। উপকার নিজেই বুঝতে পারবেন।

বিশ্রাম নেয়া :

মাসিকের সময় পেটে জ্বালা-যন্ত্রণা করলে রেস্টে থাকার চেষ্টা করবেন। এতে করে আপনার ব্যথার তীব্রতা কিছুটা হলে লাঘব হবে। পর্যাপ্ত ঘুম বিশ্রাম নিলে মাসিকের সময় হওয়া দূর্বলতা, ক্লান্তি ইত্যাদি দূর হয়ে যাবে।

গরম পানির সেঁক :

ব্যথা হলে গরম পানির সেঁক দিতে হয় তা আমরা কম বেশি সবাই জানি। এটি আপনার পিরিয়ডের ব্যথাসহ যে কোন ব্যথা যেমন : পিঠে ব্যথা, কোথাও পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়া ইত্যাদি কমাতে গরম পানির সেঁক খুবই কার্যকরী। পিরিয়ডের  পেইন উঠলে আপনি একটা হট ব্যাগের মধ্যে গরম পানি নিয়ে পেটের উপর সেঁক দিবেন। এটি আপনার পেটের ব্যথাকে দ্রুত কমিয়ে আপনাকে স্বস্তি দেবে।ঋতুস্রাব চলাকালীন হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করতে পারেন। এতে করে আপনার পেটে ব্যথা কমে যাবে।

পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা :

মাসিকের সময়ে আপনার শরীরে রক্তের সাথে প্রচুর পরিমাণ তরল পদার্থ বেরিয়ে যায়।  সে জন্য সময় চেয়ে আপনাকে অন্যান্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি পানি পান করতে হবে। এতে করে আপনার মাসিকের সময় হওয়া পেটের ব্যথা সহ ক্লান্তি, দূর্বলতা অনেকটাই কম অনুভূত হবে। আমরা সবাই জানি, শরীরের সুস্থতা রক্ষায় পানির কোন বিকল্প নেই। তাই শরীর সুস্থ রাখতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। এতে করে যদি আপনার গ্যাসের সমস্যা তা দূর হয়ে যাবে।

ব্যায়াম শরীরচর্চা করা :

পিরিয়ডের চলাকালীন হালকা এক্সারসাইজ বা হালকা ব্যায়াম করতে পারেন। পিরিয়ডের সময় যদি আপনি সারাক্ষণ শুয়ে বসে থাকেন তাহলে আপনার শরীর থেকে দূষিত রক্ত গুলো ঠিক মত বেরোতে পারবে না। এতে করে আপনার শরীরে আরও বেশি সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিন্তু আপনি যদি সময় হালকা ব্যয়াম করেন তাহলে আপনার শরীরের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকবে এবং পিরিয়ড সময়ে হওয়া ক্লান্তি, অবসাদ ইত্যাদি দূর হওয়ার পাশাপাশি পেটে ব্যথা দূর হয়ে যাবে। তাই এই সময়ে আপনি হালকা এক্সারসাইজ কিংবা হাঁটাচলা করার চেষ্টা করতে পারেন।

আরও জানুন...

অনিয়মিত ঋতুস্রাব( Irregular Period) নিয়মিত করার কিছু সেরা ঘরোয়া টিপস

তরল জাতীয় খাবার খাওয়া :

পিরিয়ডের চলাকালীন ব্লিডিং হওয়ার কারণে সময় শরীর থেকে ফ্লুইডের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এতে করে আপনার শরীর দূর্বল হয়ে পড়তে পারে। এর জন্য সময় আপনি হালকা গরম স্যুপ এবং হালকা গরম পানি পান করতে পারেন। এটি আপনার পিরিয়ডের ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে।

এছড়াও সময় আপনি তরল জাতীয় ফল অর্থাৎ যেসব ফলে পানি বেশি থাকে সেসব ফল যেমন : তরমুজ, পানি ফল, শসা, স্ট্রবেরি, ব্লাক বেরি, লেটুস পাতা প্রভৃতি বেশি করে খেতে পারেন। এগুলো আপনার শরীরকে পানিশূন্য হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করবে।

কাঁচা পেঁপে :

ঋতুস্রাব চলাকালীন পেটের ব্যথা কমাতে কাঁচা পেঁপে বেশ ভাল কাজ করে। তাই ঋতুস্রাবের সময় যখন আপনার পেইন উঠবে তখন নিয়মিত কাঁচা পেঁপে খাবেন। দেখবেন আপনার ব্যথা অনেকটাই কমে গেছে।

অ্যালোভেরা জেল :

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর রসের অনেক ঔষুধি গুণ আছে। এই রস মাসিকের ব্যথা দূর করতে অনেক ভাল কাজ করে। পেইন উঠলে একটা অ্যালোভেরার পাতা নিয়ে ভিতরের জেলিসদৃশ অংশটি নিয়ে তা রস বানিয়ে খেতে পারেন। শুধু এই রস খেতে ইচ্ছা না করলে আপনি এর  সাথে হালকা মধু মিক্সড করে ব্লেন্ডারে দিয়ে জুস তৈরি করে খেতে পারেন। এভাবে দিনে কয়েক বার এই জুস পান করুন। দেখবেন আপনার মাসিকের ব্যথা অনেকটাই কমে গেছে।

ল্যাভেন্ডার অয়েল :

ল্যাভেন্ডার অয়েল খুবই উপকারি তেল। এটি পিরিয়ডের সময়ের ব্যথা কমাতে ভাল কাজ দিবে। তাই ঋতুস্রাবের সময় যখন আপনার পেটে ব্যথা করবে তখন পেটের উপর কয়েক ফোঁটা ল্যাভেন্ডার অয়েল নিয়ে সেখানে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মত ভাল করে ম্যাসাজ করুন। দেখবেন, আপনার এটি আপনার পিরিয়ড চলাকালীন পেটের ব্যথাকে অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে।

কলা :

কলা খুবই পুষ্টিকর একটি ফল যা বছরের সব সময়ই পাওয়া যায়। এতে পটাসিয়াম এবং ভিটামিন বি৬ রয়েছে যা আপনার ঋতুস্রাবের সময় হওয়া জ্বালা-যন্ত্রণা এবং পেটের ফোলাভাব দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। তাই ঋতুস্রাবের সময় আপনার পেইন উঠলে একটা কলা খেয়ে নিতে পারেন।

লেবু :

লেবুতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ভিটামিন সি রয়েছে। যা খাওয়ার ফলে আপনার পিরিয়ডের সময় হওয়া পেটে ব্যথা রোধ করার পাশাপাশি আপনার শরীরকে পানিশূন্য হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করবে। তাই পিরিয়ডের সময় পেটে ব্যথা হলে লেবু খেতে পারেন।

ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার :

আপনার মাসিক চলাকালীন রক্তের সাথে অন্যান্য পদার্থ দেহের বাইরে বেরিয়ে যায়। সে জন্য সময় আপনার শরীরে ক্যালরি ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই এই সময় আপনার খাবারের তালিকায় ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন : দুধ, ডিম, পনির, দই, চিজ প্রভৃতি বেশি করে রাখবেন। কারণ এই ধরনের খাবার আপনার মাসিকের সময় হওয়া পেটে ব্যথা কমানোর পাশাপাশি সময়ে হওয়া মুড সুইং, ক্লান্তি, অবসাদ, প্রভৃতি দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।

সবুজ শাক-সবজি :

সবুজ শাক-সবজিতে প্রচুর পরিমাণে প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ থাকে যা আপনার ঋতুস্রাবের সময়ে হওয়া পেটে ব্যথা রোধ করতে সহায়তা করবে। এছাড়া সবুজ শাক-সবজীতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন ফাইবার থাকে। এই সব উপাদান আপনার ঋতুস্রাবের সময় শরীর যে পরিমাণ রক্ত বের হয়ে যায় তার ক্ষতি পূরণের সাহায্য করবে। তাই সময় সবুজ শাক-সবজি যেমন : বিভিন্ন ধরনের শাক, লাউ, মুলা, গাজর প্রভৃতি আপনার খাদ্য তালিকায়  বেশি করে রাখুন।

ওটস :

ওটস হল খুবই উপকারী একটি খাবার। এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, জিঙ্ক এবং ম্যাগনেসিয়ামে রয়েছে। মাসিকের চলাকালীন ওটস খেলে এতে থাকা কার্যকরী উপাদান আপনার পেটে ব্যথা কমাতে সহায়তা করবে। তাই পেটে ব্যথা কমাতে মাসিকের সময় ওটস খেতে পারেন।

এছাড়াও ওটস খাওয়ার ফলে আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে এবং এর পাশাপাশি আপনার দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকবে শরীর থেকে অতিরিক্ত ফ্যাট কমে যাবে।

আরও পড়ুন...

মেয়েদের অতিরিক্ত সাদা স্রাব হলে করণীয় কি ?

যে সব কারণে মেয়েদের অনিয়মিত  মাসিক হয় এবং যা যা করণীয় 

শেষ কথা :

মাসিক চলাকালীন হওয়া পেটে ব্যধা খুবই পীড়াদায়ক। কিন্তু এই পীড়া থেকে মুক্তি পেতে ওষুধ সেবন করা থেকে বিরত থাকবেন। কারণ এতে হিতের বিপরীত হতে পারে। মাসিকের সময় পেটে জ্বালা-যন্ত্রণা হলে চেষ্টা করবেন,  উপরিউক্ত ঘরোয়া টোটকা গুলো অনুসরণ করতে। কারণ এর কোন প্রকার সাইড ইফেক্ট নাই।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
Top