জেনে নিন -গর্ভাবস্থায় হাত পা ফুলে গেলে বা পানি জমলে কি করবেন ?

গর্ভাবস্থায় হাত পা ফুলে গেলে কি করবেন?এ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন –

                                       গর্ভাবস্থায় হাত পা ফুলে গেলে কি করবেন ?

ইডেমা বা গর্ভাবস্থায় হাত পায় পানি আসা বা শরীর কিছুটা ফুলে যাওয়ার সিচুয়েশনকে নরমাল প্রবলেম হিসেবে ধরা হয়। সময় গর্ভবতী মায়েদের পা, পায়ের গোড়ালি, পায়ের পাতা আঙুল ফুলে যেতে দেখা যায়। সাধারণত এই ধরনের সমস্যা গর্ভাবস্থার শেষের দিকে বেড়ে যায়। এই প্রবলেমটি মা এবং গর্ভের বাচ্চার জন্য তেমন ক্ষতিকর হয় না তবে এটি অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সে জন্য আমাদেরকে এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে।

এখন চলুন আমরা গর্ভাবস্থায় হাত পা ফুলে গেলে এর থেকে প্রতিকারের উপায় গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই,

 গর্ভাবস্থায় পা ফোলা কমানোর উপায় 

গর্ভাবস্থায় হাত পা ফুলে গেলে এর থেকে প্রতিকারের উপায় গুলো সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো

ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করা :

অধিকাংশ নারীরাই গর্ভাবস্থায় থাকাকালীন ব্যায়াম করতে চান না। কিন্তু সারাক্ষণ শুয়ে-বসে থাকলে তাদের শরীর আরও বেশি ভারী হয়ে যেতে পারে। যা শরীরের জন্য ভাল নয়। গর্ভাবস্থায় যদি আপনার হাত পা ফুলে যায় তাহলে আপনি হালকা ব্যয়াম বা শরীরচর্চা করতে পারেন। এর ফলে আপনার বডিতে  ব্লাড ফ্লো নরমাল থাকবে এবং দেহে অতিরিক্ত তরল জমা থাকলে তা বেড়িয়ে যাবে। তবে গর্ভাবস্থায় ব্যায়াম করার আগে কোন কোন ব্যায়াম আপনার জন্য উপযোগী সে সম্পর্কে চিকিৎসক বিশেষজ্ঞের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করে নিবেন। ব্যায়াম না করতে পারলেও নিয়মিত হাঁটাচলা করুন এবং মুভমেন্টে থাকার চেষ্টা করুন। এতেও উপকার মিলবে।

বিশ্রাম করা :

প্রেগন্যান্সি চলাকালীন আপনার বডিতে পানি জমলে বেশীক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবেন না বা কখনই পা নিচের দিকে রেখে মেঝেতে বসে থাকবেন না। কারণ এতে আপনার শরীরের শিরার উপর প্রেসার পড়তে পারে। যার ফলে বডির ফোলা আরও বেড়ে যেতে পারে। সে জন্য আপনি বেশীক্ষণ দাঁড়িয়ে না থেকে কিছুক্ষন পর পর হালকা রেস্ট নেওয়ার চেষ্টা করুন। আপনি যদি বসে রেস্ট নেন তাহলে সময় আপনার পা কিছুটা উপর তুলে রাখতে পারেন। এতে করে শিরার উপর প্রেসার পড়বে না।

আর যখন আপনি শুয়ে বিশ্রাম নিবেন তখন আপনার পায়ের নীচে বালিশ বা অন্য কিছু দিয়ে পা উপরের দিকে তুলে রাখবেন। এর ফলে আপনার নিজেকে অনেকটাই রিলাক্স মনে হবে এবং শরীরে রক্ত প্রবাহে বাধাগ্রস্থ হবে না। আর সবচাইতে ভালো হয় যদি আপনি শুয়ে থাকা অবস্থায় আপনার পা হার্টের চাইতে উপরে রাখতে পারেন। তবে সময় আপনার জন্য যেটা কমফরটেবল মনে হবে সেটাই করার চেষ্টা করবেন।

আরামদায়ক পোশাক জুতা পরিধান করা :

অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায় কখনোই টাইট পোশাক পরিধান করবেন না। কারণ এতে আপনার বডির উপরে প্রেসার পড়তে পারে। সব সময় ঢিলা এবং সুতির আরামদায়ক কাপড় পরে থাকার চেষ্টা করবেন। এতে করে আপনার বডির উপর প্রেসার পড়বে না। আর সুতির কাপড় পরলে বডির ভেতরে বাতাস চলাচলে সুবিধা হবে এবং আপনি গরম লাগার হাত থেকে রেহাই পাবেন।

আর জুতা পরার ক্ষেত্রে টাইট জুতা বা লম্বা হীলের জুতা সময় পরবেন না। এর কারণে পা আরও বেশী ফুলে যেতে পারে। সব সময় আরামদায়ক জুতা ব্যাবহার করবেন।

ম্যাসাজ বা মালিশ করা :

গর্ভাবস্থায় থাকাকালীন আপনার হাত পা ফুলে গেলে আপনি স্থানে হালকা ম্যাসাজ বা মালিশ করতে পারেন। এর ফলে আপনার বডিতে ব্লাড ফ্লো অ্যাকটিভ থাকবে এবং এর পাশাপাশি শরীরের ফুলাও কমে যাবে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, ম্যাসাজ শরীরের ফুলা বা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। তবে ম্যাসাজ করার সময় যাতে বেশী জোরে না করা হয় বা আপনার শরীরে যেন ব্যাথা না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

আলো-বাতাস পূর্ণ  ঘরে বসবাস করা :

যে ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা আছে, ঠান্ডা, ধুলা-বালি কম আসে প্রেগন্যান্সি চলাকালীন সময়ে সেই ঘরে থাকার চেষ্টা করবেন। আর বিছানার চাদর যাতে সুতির কাপড়ের তৈরি এবং আরামদায়ক হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। এতে করে ঘুমানোর সময় আপনার বেশী গরম লাগবে না।

আর ঘুমানোর সময় বাম দিক ফিরে ঘুমাবেন। এর ফলে আপনার শরীরের ডান পাশে থাকা শিরায় চাপ কম পড়বে যা দেহের নিম্নাংশ থেকে হৃদপিণ্ডে রক্ত প্রবাহ করে।

সাঁতার কাটা :

অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায় আপনার বডির ফোলা কমাতে সাঁতার খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। সাঁতার কাটার ফলে আপনার দেহে রক্ত এবং তরল প্রবাহ স্বাভাবিক থাকবে, শরীরের ফোলাও ধীরে ধীরে কমে যাবে। কিন্তু আপনি যদি সাঁতার কাটতে না পারেন তাহলে বাড়িতে যদি সুইমিং পুল থাকে তাহলে সেখানে নেমে হাঁটাহাঁটি করতে পারেন। এতেও উপকার মিলবে।

অতিরিক্ত  লবণ খাওয়া বন্ধ করা :

অতিরিক্ত লবণ ইডেমার সমস্যাকে আরও বেশি বাড়িয়ে দিতে পারে। কারণ লবণ আমাদের  শরীরে পানি ধরে রাখে। আর এই সমস্যায় যদি আপনি লবণ খান তাহলে শরীর ফোলা কমার বদলে উল্টো বেড়ে যাবে। তাই গর্ভাবস্থায় খাবারে অতিরিক্ত লবন দেওয়া পরিহার করবেন।অতিরিক্ত সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার বদলে আপনি পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন- কলা, অ্যাপ্রিকট, কমলা, মিষ্টি আলু, বিট প্রভৃতি খেতে পারেন।

সুষম খাবার গ্রহণ করা :

গর্ভাবস্থায় থাকা অবস্থায় সব সময় স্বাস্থ্যকর এবং সুষম খাবার খাওয়ার চেষ্টা করবেন। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় মাছ, মাংস, ডাল, ডিম, সবুজ শাক-সবজি প্রভৃতি রাখার চেষ্টা করবেন। এর ফলে আপনার শরীরে ইডেমার প্রবলেম কমে যেতে পারে।

ধূমপান ত্যাগ করা :

ধুমপান এমনিতেই স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। প্রেগন্যান্সি চলাকালীন কখনোই ধূমপান করবেন না। এর কারণে শরীরে পানি জমার সমস্যা বাড়তে পারে। তাই আপনার যদি ধুমপানের অভ্যাস থাকে তাহলে তা অবশ্যই ত্যাগ করবেন।

পানি খাওয়া :

গর্ভাবস্থায় ইডেমার প্রবলেম দেখা দিলে অনেকেই ভাবেন যে বেশি পানি খেলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে সেই ভয়ে পানি খাওয়া বন্ধ করে দেন। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। সময় যদি আপনি পানি বেশি করে খান তাহলে আপনার বডি হাইড্রেটেড থাকবে। এর ফলে অতিরিক্ত তরল প্রস্রাবের মাধ্যমে আপনার দেহ থেকে বেড়িয়ে যাবে। আর ইডেমার প্রবলেমও আস্তে আস্তে  কমে যাবে।  

গরমে বাইরে না যাওয়া :

অতিরিক্ত গরমের কারণে আপনার শরীর আরও বেশী ফুলে যেতে পারে। সে জন্য গরমে বাইরে যাওয়ার চেষ্টা না করে ঘরে বসে বিশ্রাম নিন এবং গরমের জায়গায় না থেকে ঠাণ্ডা আরামদায়ক স্থানে থাকার চেষ্টা করবেন।

আরও পড়ুন :

গর্ভপাত বা Miscarriage এড়াতে যে সব সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত ? 

শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে বুঝবেন কিভাবে ?

গর্ভপাত (Miscarriage) কেন হয় ?জেনে নিন ,গর্ভপাতের লক্ষণ সমূহ কি কি ?

আমাদের মন্তব্য:

গর্ভাবস্থার সময় ইডেমা বা শরীর ফুলে যাওয়া একটি স্বাভাবিক ঘটনা। তবে এর লক্ষণ প্রকাশের সাথে সাথে এটি প্রতিকারের জন্য উপরিউক্ত ব্যবস্থা গুলো গ্রহণ করতে হবে। কারণ গর্ভাবস্থা কালীন জটিলতা গুলো দ্রুত তাড়াতাড়ি কাটিয়ে উঠতে পারলে মা শিশুর  উভয়ের জন্য মঙ্গলজনক হবে।

 

 

Post a Comment

Previous Next