জেনে নিন-গর্ভকালীন দাগ মেশানোর উপায়

0

 কি উপায় অবলম্বন করলে আপনি গর্ভকালীন দাগ মেশাতে পারবেন ? এ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন

গর্ভকালীন দাগ মেশানোর উপায়
ছবি:সংগৃহিত

 

গর্ভাবস্থায় সময় একজন মায়ের শরীরে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক পরিবর্তন ঘটে থাকে। যার জন্য গর্ভাবস্থার পরে তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় যেমন : পেটে, উরুতে, শরীরের বিভিন্ন ভাঁজে এমনকি হাতে ও দাগ সৃষ্টি হয়। যা সহজে সারতে চায় না বা পুরোপুরি নির্মূল হয় না। বিশেষজ্ঞ দের মতামত অনুসারে, সার্জারী করার মাধ্যমে এই ধরনের দাগ পুরোপুরি নিরাময় করা যায়। এছাড়া লেজার চিকিৎসার মাধ্যমে ও এই দাগ দূর করা সম্ভব। কিন্তু এই সব চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যাবহুল বলে অনেকেই করাতে চান না। এ জন্য বাজারে যে সব দাগ উঠানোর ক্রিম পাওয়া যায় সে গুলো ব্যবহার করেন। তবে এ সব ক্রিমে বিভিন্ন ধরনের ক্যামিকাল মিশ্রিত থাকে। সে জন্য এই সব ক্রিম ব্যবহার করলে আপনার শরীরে এর সাইড ইফেক্ট দেখা দিতে পারে। ক্রিম ছাড়াও অনেক ধরনের প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে যে গুলো ব্যবহার করার ফলে ঘরে বসে কোন সাইড ইফেক্ট ছাড়াই খুব কম সময়ের মধ্যে আপনার গর্ভকালীন ত্বকের দাগ সারিয়ে উঠানো সম্ভব। কিন্তু অধিকাংশ মায়েরাই এই সব উপায় সম্পর্কে জানে না। যার জন্য এ বিষয় নিয়ে টেনশনে থাকেন। সে জন্য আমাদের গর্ভকালীন দাগ মেশানোর উপায় গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। 

তাই চলুন আজ গর্ভকালীন দাগ মেশানোর ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই, 


ঘরোয়া পদ্ধতিতে কিভাবে আপনি গর্ভকালীন দাগ মেশাতে পারবেন ?

ঘরোয়া পদ্ধতিতে যেভাবে আপনি গর্ভকালীন দাগ মেশাবেন তা নিয়ে নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো –

অ্যাপ্রিকট পেস্ট : 

ঘরোয়া পদ্ধতিতে কিভাবে আপনি গর্ভকালীন দাগ মেশাতে পারবেন ?
ছবি:সংগৃহিত


উন্নত অ্যাপ্রিকট ফল আপনার গর্ভকালীন দাগ দূর করতে সহায়তা করবে। অ্যাপ্রিকট ফল ব্যবাহারের জন্য আপনাকে এর বিচি ফেলে দিয়ে এর পেস্ট বানাতে হবে। এরপর আপনি এই পেস্ট আক্রান্ত স্থানের উপর ১০ থেকে ২০ মিনিটের জন্য লাগিয়ে রেখে দিন। এভাবে রেগুলার দিনে দুই বার লাগাবেন। এই পেস্ট ব্যবহারের ফলে আপনার মৃত ও ক্ষতিগ্রস্ত কোষ উঠে গিয়ে নতুন কোষ জন্মাবে এবং ত্বকের স্কার দূর হবে। দাগ দূর করা ছাড়া ও এটি আপনার চামড়া সুন্দর ও মসৃণ করতে সাহায্য করবে।  

পড়ুন:প্রথম সিজারের পর নরমাল ডেলিভারি সম্ভব কি না ?

ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরা : 

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর শাঁস প্রেগ্ন্যাসির পরের স্কার নির্মূল করতে খুবই কার্যকরী। স্কার দূর করার জন্য আপনাকে প্রথমে একটি ঘৃতকুমারী পাতা নিতে হবে। এরপর পাতার ভিতর থেকে শাঁস বা জেলির মত অংশটি বের করে নিয়ে আক্রান্ত জায়গার ওপর লাগাতে হবে। লাগানোর পর দুই ঘন্টা অপেক্ষা করবেন। তারপর পানি দিয়ে ভালো করে জায়গাটি ধুয়ে ফেলবেন। অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করার ফলে আপনার স্কিন টানটান হবে। এই জেল আপনার চামড়ার ক্ষতিগ্রস্ত কোষ সারিয়ে ত্বককে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করবে।

প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার :

গর্ভাবস্থা পরবর্তী ফাটা দাগ মেশানোর জন্য আপনাকে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন জাতীয় খাবার যেমন : বাদাম, দই, মাছ, ডিমের সাদা অংশ, তরমুজের বীজ, সূর্যমুখীর বীজ ইত্যাদি খাবেন। এই সব খাবার খাওয়ার ফলে আপনার শরীরের স্কার দ্রুত দূর হবে এবং এর পাশাপাশি আপনার ত্বক ও সুন্দর হবে।

ল্যাভেন্ডার তেল : 

গর্ভকালীন দাগ মেশাতে ল্যাভেন্ডা তেল

ছবি:সংগৃহিত

গর্ভকালীন স্কার নির্মূল করতে ল্যাভেন্ডার তেল ও অনেক ভালো কাজ করে। প্রতিদিন আপনি তিন বার করে এই তেল আক্রান্ত স্থানে লাগাবেন। এটা ব্যবহার করার ফলে আপনার ধীরে ধীরে দাগ দূর হবে এবং দাগা ক্রান্ত স্থানে নতুন কোষ সৃষ্টি হবে। তাই স্কার দূর না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন এটি ব্যবহার করুন।

অ্যারোমেটিক বা সুগন্ধি তেল : 

বিভিন্ন ধরনের অ্যারোমেটিক বা সুগন্ধি তেল যেমন- কেমোমাইল, অ্যাভোকাডো, কাঠবাদাম এবং জোজোবা তেল প্রভৃতি স্কার দূর করতে সাহায্য করে। গর্ভকালীন ফাটা দাগ মেশানোর জন্য আপনি এই তেল ব্যবহার করতে পারেন।

এছাড়া ও এই তেল গুলোর সাথে যদি আপনি Lavender তেল মিক্সড করে ক্ষতিগ্রস্থ স্থানে লাগান তাহলে দাগ ওঠানোর জন্য এটি দ্রুত কাজ করবে। এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে আপনার পুনরায় স্কার ফিরে আসা রোধ করতে এটি সাহায্য করবে।

লেবুর রস : 

প্রেগন্যান্সির কারণে সৃষ্ট স্কার নির্মূল করতে লেবুর রসের অনেক ভূমিকা রয়েছে। লেবু আক্রান্ত স্থানে ব্যবহারের জন্য আপনি শুধু একটি লেবু নিয়ে তার রস বানিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ স্থানে লাগাবেন। এরপর জায়গাটিতে ১০ মিনিট ধরে ভালো ভাবে  মালিশ করুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন। 

এছাড়া ও আপনি লেবুর রসের সাথে চিনি, ও অলিভ অয়েল মিক্সড করে স্ক্রাব বানিয়ে নিতে পারেন। এরপর সেটা রেগুলার ইফেক্টেড স্থানে লাগিয়ে ৫ থেকে ১০ মিনিট ম্যাসাজ করবেন। দাগ নির্মূল করতে এই পদ্ধতিটি ও ভাল কাজ দিবে।

ডিমের সাদা অংশ : 

গর্ভাবস্থার পরের ফাটা দাগ দূর করতে ডিম অনেক কার্যকরী। ডিম ব্যবহার করার জন্য আপনাকে একটা ডিম নিতে হবে। এরপর তা ভেঙে ভেতরের সাদা অংশ একটা বাটিতে আলাদা করে নিতে হবে। তারপর ঐ সাদা অংশ আক্রান্ত স্থানে লাগান এবং ৫ থেকে ১০ মিনিট ভালো করে মালিশ করুন। এভাবে প্রতিদিন তিন বার ব্যবহার করবেন। যতদিন দাগটা পুরোপুরি না মিশে যায়, ততদিন পর্যন্ত এভাবে রেগুলার লাগাবেন। এতে করে আপনার ফাটা চামড়ার দাগ দ্রুত সেরে উঠবে।  

আলুর রস : 

গর্ভকালীন দাগ মেশানোর জন্য আপনাকে একটা আলু নিতে হবে। এরপর সেই আলু দুই টুকরা করে কেটে ফাটা দাগের ওপর কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করুন অথবা আপনি চাইলে আলু রস করে ও নিতে পারেন। এরপর ক্ষতিগ্রস্থ স্থানে ভালোমতো সেই রস মালিশ করুন। এরপর ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। রস শুকিয়ে যাওয়ার পর কুসুম গরম পানি দিয়ে তা ধুয়ে নিন। এভাবে কয়দিন পদ্ধতিটি ব্যবহার করুন উপকার নিজেই বুঝতে পারবেন।  

ভিটামিন ই ক্যাপ্সুল : 

গর্ভকালীন দাগ মেশানোর জন্য ভিটামিন ই ক্যাপ্সুল ব্যবহার করতে পারেন। স্কার দূর করতে এটি ও ভালো উপকার দিবে। এই ক্যাপ্সুল আপনি আক্রান্ত স্থানে দিনে দুই বার লাগাবেন। লাগানোর পর ম্যাসাজ করবেন। ভিটামিন ই ক্যাপ্সুল আপনাক ত্বককে খুব ভালো ভাবে আর্দ্র রাখার পাশাপাশি দ্রুত স্কার নির্মূল করতে সহায়তা করবে।

ভিটামিন সি সমৃদ্ধ সাপ্লিমেন্ট : 

পেগন্যান্সির পরবর্তী স্কার দূর করার জন্য ভিটামিন সি সমৃদ্ধ সাপ্লিমেন্ট খেতে পারেন। তবে এই সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার পূর্বে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন। 

সাপ্লিমেন্ট না খেতে চাইলে আপনি ডাক্তারের কাছ থেকে শুনে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। প্রতিদিন তিন বার করে এই ক্রিম ফাটা দাগের উপর লাগালে আপনি উপকার পেতে পারেন।

প্রয়োজনে পড়ুন :সিজারের পর পেটের মেদ কমাবেন কিভাবে

                               সিজারের পর মা ও শিশুর যত্ন প্রক্রিয়া

অবশেষে আমরা বলতে পারি যে, 

একজন মায়ের জন্য গর্ভাবস্থার সময় যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমন গর্ভাবস্থার পরের সময়টি ও তার জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভাবস্থার পরের সময়টি মোকাবেলা করা সদ্য মায়ের জন্য আরও বেশি কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কারণ এ সময় তার শিশুর যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি প্রসবের ফলে তার শরীরে যে দাগের সৃষ্টি হয়েছে সেই দাগের স্থান গুলোর ও যত্ন নিতে হবে। সময় মতো এই সব আক্রান্ত স্থানের যত্ন না নিলে এই দাগ গুলো সারা জীবন আপনার ত্বকের উপর থেকে যাবে। যা দেখতে অনেক খারাপ লাগে। তাই গর্ভকালীন দাগ মেশানোর জন্য আপনাকে উপরিউক্ত উপায় গুলো ঠিক মত অবলম্বন করতে হবে এবং একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক এর কাছ থেকে এ বিষয় সম্পর্কে পরামর্শ নিতে হবে। 






Tags

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
Top