যে সব ‍বিষয় অবলম্বন করলে আপনি মানসিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে পারেন ?

0

 

 যে সব ‍বিষয় অবলম্বন করলে আপনি মানসিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে পারেন ? সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন

যে সব ‍বিষয় অবলম্বন করলে আপনি মানসিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে পারেন ?
ছবি:সংগৃহিত

আমাদের মনের সাথে শরীরের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্য ভাল না থাকলে আমাদের শরীর আস্তে আস্তে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। আমরা অনেকেই শরীরের অসুখ বুঝতে পারলে মনের অসুখ সহজে বুঝতে পারি না। আর মানসিক এই অসুস্থতা থেকে আমাদের শরীরে নানা ধরনের জটিল রোগ যেমন: মানসিক ভারসাম্যহীনতা, নেশাগ্রস্ততা, টিউমার, ক্যান্সার প্রভৃতি দেখা দিতে পারে। এর ফলে আমাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি হতে পারে। বর্তমান সময়ে মূলত আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যস্ততার কারণে মানসিক অবসাদ বা দূর্বলতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা আমাদের ব্রেন বা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাকে ধীরে ধীরে নষ্ট করে দিতে পারে। আমরা যদি দৈনন্দিন জীবনে কিছু অভ্যাস বা উপায় অবলম্বন করতে পারি তাহলে আমাদের মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার পথ অনেক সহজ হয়ে যায়। এজন্য এই উপায় গুলো সম্পর্কে আমাদের বিস্তারিত ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

 

কীভাবে আপনি মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারেন ?

আপনি কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘরোয়া উপায়ের মাধ্যমে আপনার মানসিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে পারেন। উপায় গুলো সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত জেনে নিন

জীবনযাত্রার পরিবর্তন করা :

আপনাকে মানসিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য সবার আগেই জীবনযাত্রার মানের পরিবর্তন করা দরকার। আপনার হাজার ব্যস্ততা থাকার মধ্যে নিজেকে ভাল রাখার জন্য আলাদা সময় বের করতে হবে যাতে আপনার মানসিক শারীরিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখা যায়। রোগ-ব্যাথি সম্পর্কে সব সময় সচেতন থাকতে হবে। অসুখ-বিসুখ দেখা দেয়ার সাথে সাথে হেলা-ফেলা না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

দৈনন্দিন ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করা :

নিয়মিত যদি আপনি শরীরচর্চা এবং ব্যায়াম করেন তাহলে আপনার সারাদিনের মানসিক ক্লান্তি বা অবসাদ অনেক কমে যেতে পারে। এর ফলে আপনার শরীর চাঙ্গা থাকবে এবং কাজ করার শক্তি আরও বেড়ে যাবে। নিয়মিত ব্যায়াম করার ফলে আপনার শরীরে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকবে এবং হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ প্রভৃতি ধরনের জটিল রোগ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলক ভাবে অনেক কম থাকে। তাই মানসিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য প্রতিদিন অন্তত আপনার ৩০ মিনিট শারীরিক ব্যায়াম করা উচিত। 

টেনশন বা দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা :

মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হলে আপনাকে অব্যশই টেনশন বা দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে হবে। যে কোন বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত টেনশন বা দুশ্চিন্তা করা বাদ দিতে হবে তাহলে আপনার মানসিক চাপ বা অবসাদ তুলনামূলক ভাবে অনেক কম হবে। এর ফলে আপনার মানসিক সুস্বাস্থ্য বজায় থাকবে বলে আশা করা যায়।দেখুন -Insomnia বা নিদ্রাহীনতা আপনার শরীরে মারাত্নক প্রভাব ফেলতে পারে 

পর্যাপ্ত ঘুম এবং বিশ্রাম নেয়া :

আপনি নিয়মিত যদি পর্যাপ্ত ঘুম এবং বিশ্রাম নেন তাহলে আপনার মস্তিষ্কের ভিতরে চাপের প্রভাব স্বাভাবিক মাত্রায় থাকবে। এর ফলে আপনার মস্তিষ্কের কোষগুলোতে রক্ত চলাচলের পরিমাণ স্বাভাবিক থাকবে। জন্য মানসিক ভাবে সুস্থ থাকতে হলে আপনাকে অবশ্যই ঘুম বিশ্রাম ঠিকমত নিতে হবে।  

একাকিত্বতা দূর করা :

সারাক্ষণ একাকী না থেকে আপনি যদি পরিবার এবং বন্ধু-বান্ধবের সাথে বেশি সময় কাটান তাহলে আপনার ব্রেনের রোগ বা মস্তিষ্কের রোগ হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। সবার সাথে সময় কাটানোর ফলে আপনার সারাদিনের মানসিক চাপ বা অবসাদ কমে যেতে পারে। এর ফলে আপনি হতাশাগ্রস্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে পারেন এবং মস্তিষ্কের কার্যকলাপ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার বন্ধ করা :

বর্তমান সময়ে আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন: ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম প্রভৃতির ব্যবহারের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ছি। এর ফলে আমাদের মস্তিক মারাত্নক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। মাত্রাতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাবহার করার ফলে আপনার মস্তিষ্কের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে বাঁধা দিতে পারে। কারণ সবের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে আপনার শরীরে ডিপ্রেশন, ইনসমনিয়া, মানসিক অবসাদ প্রভৃতি দেখা দিতে পারে। তাই মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হলে আপনাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার কমিয়ে দিতে হবে।

 আরও পড়ুন :ডিপ্রেশন কি ? ডিপ্রেশন হলে দেহে কোন ধরনের লক্ষণগুলো দেখা যায় ?

সক্রিয় থাকা :

মানসিক সুস্থ্যতা বজায় রাখতে হলে আপনাকে অবশ্যই কাজের প্রতি সক্রিয় থাকতে হবে। এর ফলে আপনার মানসিক ক্লান্তি বা অবসাদ, অলসতা দূর হবে। আপনার শরীরে রক্ত চলাচলের মাত্রা স্বাভাবিক থাকবে এবং আপনার শরীর মন দুটোই প্রফুল্ল হয়ে উঠবে এবং রোগ-ব্যাধি হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক ভাবে অনেক কম থাকবে।

ডিপ্রেশন দূর করা :

নিজেকে মানসিক ভাবে সুস্থ রাখতে হলে আপনার জীবনের থেকে ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতার প্রভাব কাটাতে হবে তাহলে আপনার মানসিক চাপ স্বাভাবিক থাকবে। এর ফলে আপনার মানসিক অবসাদ বা ক্লান্তির প্রভাব দূর হবে এবং আপনার দৈনন্দিন জীবনে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলক ভাবে কম থাকবে।

ধূমপান ত্যাগ করা :

আপনি যদি মানসিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে ধূমপান ত্যাগ করতে হবে। কারণ নিয়মিত ধূমপান করার ফলে আপনার মস্তিষ্কের ভিতরে চাপের প্রভাব বেড়ে যেতে পারে সিগারেটের ভিতরে থাকা ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের কারণে। এর ফলে আপনার মস্তিষ্ক নিস্তেজ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে এবং এর সাথে মানসিক ভারসাম্যহীনতা,  ব্রেন স্ট্রোক, টিউমার, ক্যান্সার ইত্যাদি রোগ সৃষ্টি হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে। তাই আপনার মানসিক সুস্বাস্থ্যের জন্য ধূমপান ত্যাগ করা অত্যাবশ্যক।

প্রয়োজনে পড়ুন :ব্রেন ক্যান্সার কী ? ব্রেন ক্যান্সার হলে ,দেহে কোন ধরনের লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা যায় ?

ব্রেন স্ট্রোক কী কারণে হয়? ব্রেন স্ট্রোকের লক্ষণ বা উপসর্গ কি ক?

অ্যালকোহল জাতীয় দ্রব্য গ্রহণ বর্জন করা :

মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য আপনাকে মদ বা অ্যালকোহল জাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করা বর্জন করতে হবে। এর ফলে মদের ভিতরে থাকা উচ্চ মাত্রার অ্যালকোহল আপনার মস্তিষ্কের ভিতরের কোষগুলোতে স্বাভাবিকভাবে রক্ত চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করতে পারবে না। যার ফলে আপনার মানসিক সুস্বাস্থ্যতা বজায় রাখা অনেক সহজ হয়ে যাবে।

অতিরিক্ত ক্যাফেইন জাতীয় দ্রব্য পান বন্ধ করা :

ক্যাফেইন জাতীয় দ্রব্য যেমন : চা, কফি ইত্যাদি খেলে এগুলো আপনার ঘুম কমাতে সাহায্য করে। এগুলো বেশি খেলে আপনার ঘুমের প্রবণতাকে কমিয়ে দিতে পারে। ঘুম কম হওয়ার ফলে আপনার মানসিক চাপের প্রভাব বেড়ে যেতে পারে এবং ধীরে ধীরে আপনার শরীরে দূর্বলতা দেখা দিতে পারে। জন্য মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে হলে আপনাকে অতিরিক্ত ক্যাফেইন জাতীয় দ্রব্য পান করা বন্ধ করতে হবে।  

 

অযথা রাগ করার অভ্যাস ত্যাগ করা :

আপনি যদি মানসিক সুস্বাস্থ্যতা বজায় রাখতে চান তাহলে আপনাকে অকারণে রাগ করার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। কারণ হুটহাট রাগ করার অভ্যাস আপনার মানসিক চাপের প্রভাবকে স্বাভাবিক তুলনায় অনেক বেশি বাড়িয়ে দিতে পারে। এর ফলে আপনার ব্রেন বা মগজের শক্তি কমতে থাকে এবং আস্তে আস্তে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা লোপ পেতে পারে। তাই নিজেকে মানসিক ভাবে সুস্থ রাখতে হলে অযথা রাগ করার অভ্যাস বাদ দিতে হবে।

সুষম খাবার গ্রহণ করা :

আপনার মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য সুষম খাবার গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক। আপনি যদি সুষম খাবার বা মস্তিষ্কের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিকারী খাবার যেমন : বাদাম, বীজ জাতীয় খাবার, সবুজ শাক-সবজি, প্রয়োজনীয় আমিষ ইত্যাদি বেশি করে খান তাহলে আপনার শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করতে হবে। এর ফলে আপনার ব্রেন বা মগজের স্মৃতি শক্তি আরও বৃদ্ধি পাবে। যা আপনাকে সতেজ এবং দৈনন্দিন কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।

আলো-বাতাস পূর্ণ জায়গায় থাকা :

সব সময় আপনি যদি আলো-বাতাস পূর্ণ জায়গায় থাকেন তাহলে আপনার শরীর মন প্রফুল্ল থাকবে। এর ফলে আপনার মস্তিষ্ক থেকে  মানসিক অবসাদ, ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতার প্রবণতা অনেক কমে যেতে পারে। যার ফলে আপনার দৈনন্দিন কর্মদক্ষতার স্বাভাবিক গতি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

কোলাহল মুক্ত পরিবেশে থাকা :

আপনি যদি কোলাহল মুক্ত পরিবেশে থাকেন তাহলে আপনার মানসিক প্রশান্তি বজায় থাকবে। সারাক্ষণ কোলাহল যুক্ত জায়গায় থাকলে আপনার শ্রবণশক্তির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। আর সেই সাথে আপনার মানসিক চাপ বেড়ে যেতে পারে এবং ব্রেনের রোগ আলজেইমার এবং মস্তিষ্কের কোষগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই মানসিক সুস্বাস্থ্য রক্ষা করতে হলে আপনাকে হট্টগোল মুক্ত সুন্দর পরিবেশে বসবাস করতে হবে।

 

 পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে,

আমাদের শরীর মন একে অন্যের পরিপূরক। এক কথায় একটি ছাড়া অন্যটি চলতে পারে না। আমাদের যদি মন খারাপ হয় তাহলে সেই প্রভাব আমাদের শরীরের ওপর   পড়বে। এই প্রভাব যদি বেড়ে যায় তাহলে আমাদের সুস্থ স্বাভাবিক ভাবে বেঁচে থাকার পথ কঠিন করে দিতে পারে। জন্য মানসিক অবসাদ দূর করা বা মস্তিষ্ককে সতেজ রাখার জন্য সব সময় নিজেকে সচেতনতা বজায় রেখে চলতে হবে। আমরা দৈনন্দিন জীবনে যদি উপরিউক্ত ভালো অভ্যাস গুলো আয়ত্ব করতে পারি তাহলে আমাদের মানসিক শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখার পথ অনেক সহজ হয়ে যাবে। তাই মানসিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই উপরিউক্ত অভ্যাস গুলো অনুসরণ করতে হবে এবংবেশি সমস্যা হলে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তাদের দেয়া নির্দেশনা গুলো ঠিক মত মেনে চলতে হবে।

 

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
Top