জেনে নিন, ফুসফুস ক্যান্সারের ( Lung cancer) কারণ ও লক্ষণ গুলো কি কি ?

0

 ফুসফুসের ক্যান্সার( Lung cancer) কি ?ফুসফুসের ক্যান্সার কি কারণে হয় ? কিভাবে  প্রাণঘাতি ফুসফুসের ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায় ? জানতে হলে বিস্তারিত পড়ুন …

ফুসফুস ক্যান্সারের ( Lung cancer)  কারণ ও লক্ষণ গুলো কি কি
ছবি:সংগৃহিত

মানবদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হল ফুসফুস। আার এই ফুসফুস ছাড়া আমরা বাঁচতে পারি না। এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সবশেষ তথ্য অনুযায়ী দেখা গেছে যে, বর্তমান বিশ্বে মানুষ যেসব ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন, তার মধ্যে অন্যতম একটি হল ফুসফুসের ক্যান্সার। ধীরে ধীরে এই ফুসফুসের ক্যান্সারে( Lung cancer )আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবং তথ্যতে আরও দেখা গেছে যে, এই ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর সংখ্যাও সবথেকে বেশি। প্রতি বছর বিশ্বে ফুসফুসের ক্যান্সারে( Lung cancer) আক্রান্ত হয়ে প্রায় ১৩ লক্ষ লোক মারা যায়।

 

আসলে ফুসফুস ক্যান্সার( Lung cancer) কী ?

ফুসফুস ক্যান্সার( Lung cancer) কী
ছবি ;সংগৃহিত


ফুসফুসের
ক্যান্সারের ইংরেজি নাম হল Lung cancer বিশেষজ্ঞদের মতে ক্যান্সার হল একটি রোগ যেটা আমাদের শরীরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে কোষ বৃদ্ধির ফলে হয়ে থাকে। Lung cancer বা ফুসফুস ক্যান্সার হল ফুসফুসের একটি রোগ যেটা ফুসফুসে সংঘটিত হয়ে থাকে। ফুসফুসের টিস্যুগুলিতে যখন অনিয়ন্ত্রিতভাবে কোষগুলো বৃদ্ধি পেতে থাকে তখন ফুসফুসে ক্যান্সারের সূচনা ঘটে। এই অনিয়ন্ত্রিতভাবে কোষ বৃদ্ধির ফলে ফুসফুস ক্যান্সার মেটাস্ট্যাসিস, প্রতিবেশী টিস্যুতে আক্রমণ এবং কোষ বৃদ্ধি পেতে থাকলে ফুসফুসের ক্যান্সার বাইরে সংক্রমণ ঘটতে পারে। চিকিৎসক বিশেষজ্ঞরা এই ক্যান্সারকে প্রাণঘাতী ক্যান্সারও বলে থাকেন।

এখানে, যা যা থাকছে......

  •  কাদের ফুসফুস ক্যান্সার হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে?
  •  কী কারণে ফুসফুসে ক্যান্সার হয়ে থাকে?
  •  ফুসফুসের ক্যান্সার হলে কী কী লক্ষণ দেখা যায়?

কাদের ফুসফুস ক্যান্সার হয়ে থাকে ?

ফুসফুসের ক্যান্সার নারী-পুরুষ উভয়ের হয়ে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে নারীদের তুলনায় পুরুষদের এই ক্যান্সার বেশি হয়ে থাকে। চিকিৎসক বিশেষজ্ঞরা অধিকাংশ পুরুষদের এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার কারণ হিসেবে ধূমপান এবং তামাক জাতীয়দ্রব্যকে দায়ী করেছেন। ফুসফুসে ক্যান্সার-জনিত কারণে মৃত্যুর প্রথম স্থানে রয়েছে পুরুষরা। এবং দ্বিতীয় স্থানে আছেন নারীরা। গবেষণায় দেখা গেছে যে, বাংলাদেশে মোট ক্যান্সার শনাক্ত রোগীর প্রায় ১৬ শতাংশই এই ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত।

কী কারণে ফুসফুসে ক্যান্সার হয়ে থাকে ?

সাধারণত যারা শহরে বসবাস করেন তারা গ্রামে বসবাসকারীদের তুলনায় ফুসফুসের ক্যান্সারে বেশি আক্রান্ত হন। এর পেছনে যথেষ্ট কারণও রয়েছে। গ্রামের বাতাসে শহরের বায়ুদূষণ, ধুলাবালি, যানবাহন কল-কারখানার কালো ধোঁয়া সবকিছুই তুলনামূলক ভাবে অনেক বেশি থাকে। ফুসফুসের ক্যান্সার হওয়ার কারণ গুলো সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলোঃ

অতিরিক্ত ধূমপান করা :

চিকিৎসক বিশেষজ্ঞদের মতে, কোন ব্যক্তি যদি প্রতিদিনে প্রায় ২০টির অধিক সিগারেট খান এবং দীর্ঘ দিন ধরে সিগারেট খেয়ে আসছেন তাদের ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি যারা ধূমপান করেন না তাদের তুলনায় প্রায় ২০ গুণ বেশি। যারা নিয়মিত ধূমপান করেন তাদের মধ্যে অধিকাংশ ব্যক্তির ক্ষেত্রেই স্মল সেল ক্যান্সার হতে দেখা যায়। অন্যান্য ফুসফুসের ক্যান্সারের তুলনায় এই ক্যান্সারটি বেশি মারাত্মক এবং এই ফুসফুস ক্যান্সার অন্যান্য ক্যান্সারের তুলনায় অপেক্ষাকৃত দ্রুত শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।

তেজস্ক্রিয়তা বৃদ্ধির কারণে:

বাতাসে ক্ষতিকারক গ্যাসের উপস্থিতি বাতাসে ক্ষতিকর রেডন নামক গ্যাসের উপস্থিতির কারণে এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে তেজস্ক্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই তেজস্ক্রিয়তা বৃদ্ধির কারণেও ফুসফুসে ক্যান্সার হয়ে থাকে। যে সব পেশাজীবীরা কলকারখানায় কাজ করেন, যে সব শ্রমিকরা বিল্ডিং নির্মাণ করেন, কেমিক্যাল এবং পেট্রোলিয়াম কারখানার শ্রমিক জাহাজ শ্রমিক, যারা এক্স-রে বিভাগে কাজ করে থাকেন, যে সব ব্যক্তিদের রেডিয়েশন থেরাপি দেওয়া হয় সাধারণত এই ধরনের ব্যক্তিদের ফুসফুস ক্যান্সার হওয়ার হার বেশি থাকে।

বায়ুতে ক্ষতিকারক পদার্থের উপস্থিতি :

বাতাসে বিভিন্ন ধরনের জৈব পদার্থ এবং অজৈব পদার্থ রয়েছে যেগুলো ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। বাতাসে নিকেল, ক্রোমিয়াম ক্ষতিকর অজৈব পদার্থ এবং নজিন, বেনজোপাইরিন ক্ষতিকর ইত্যাদি জৈব পদার্থ থাকে। এই সব ক্ষতিকর পদার্থ বাতাসের সাথে মিশে যায় এবং নাক দিয়ে আমাদের ফুসফুসের ভিতরে প্রবেশ করে ফুসফুসের ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। রকম প্রতিনিয়তই আমাদের ফুসফুসের ভিতর ঢুকছে এবং ফুসফুসকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে।

বংশগত কারণে :

পরিবারের কোন সদস্য যদি আগে ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে তার পরিবারের সদস্যের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ। থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় বংশগত কারণে , ফুসফুস ক্যান্সার বিস্তার লাভ করে। ছাড়াও যাদের সিস্টিক ফাইব্রোসিস, লাং ডিজিজ, ক্রোনিক ব্রঙ্কাইটিস ইত্যাদি রোগ আছে তাদের ক্ষেত্রে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশী।

পূর্বে ক্যান্সার থাকলে :

কোন ব্যক্তির যদি আগে শরীরের অন্য কোন জায়গায় ক্যান্সার হয়ে থাকে সেই জায়গা থেকে পুনরায় ক্যান্সার রক্তের মাধ্যমে দ্রুত ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। এই ধরনের রোগকে ফুসফুসের সেকেন্ডারি কারসিনোমা বলা হয়ে থাকে। ফুসফুসের ক্যান্সার প্রায় ৪০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে একদম শেষ পর্যায়ে গিয়ে সনাক্ত হয়ে থাকে। এ রকম হলে রোগীর মৃত্যু ঝুঁকি বেশি থাকে।

 

ফুসফুসের ক্যান্সার হলে কী কী লক্ষণ দেখা যায়?

চিকিৎসক বিশেষজ্ঞ দের মতে, ফুসফুসের ক্যান্সারের উপসর্গ প্রাথমিক পর্যায়ে দেখা নাও দিতে পারে। কিন্তু তাদের মতে এই ক্যান্সার হলে সাধারণত নিম্নের লক্ষণ গুলো দেখা দেয়।

দীর্ঘদিন ধরে কাশি থাকা :

দীর্ঘদিন ধরে কাশির সমস্যায় ভুগা ফুসফুসে ক্যান্সারের অন্যতম একটি প্রধান কারণ। কোন ব্যক্তি যদি দীর্ঘদিন ধরে কাশির সমস্যায় ভুগে থাকেন তাহলে ব্যক্তির ফুসফুসে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

কাশির সময় বুকে ব্যথা অনুভব করা :

কোন ব্যক্তির যদি অনেক দিন ধরে কাশির সমস্যায় ভুগেন এবং কাশির সময় বুকে ব্যথা অনুভব করেন অথবা দীর্ঘ দিন কাশি হওয়ার পরে যদি কাশির শব্দে পরিবর্তন আসে তাহলে ব্যক্তির ক্ষেত্রেও ফুসফুসে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

 কাশির সাথে রক্ত পড়া :

কোন ব্যক্তির যদি দীর্ঘদিন ধরে কাশি থাকে এবং এই কাশির সাথে রক্ত পড়ে তাহলে ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

 হঠাৎ করে শ্বাস বন্ধ অনুভব করা :

ফুসফুসে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলোর মধ্যে একটি হল হঠাৎ করে শ্বাস বন্ধ অনুভব করা। তার মানে হল কোন কাজ করতে গেলে আপনার দম বন্ধ বা শ্বাস বন্ধ অথবা আপনি অল্পতেই হাঁপিয়ে যেতে পারেন যা আগে কখনোই আপনার ক্ষেত্রে ঘটেনি।

 ঘন ঘন কাশি হওয়া :

ফুসফুসে ক্যান্সারের আরও একটি লক্ষণ হল আপনার কাশি সহজে সারতে চায় না অথবা কাশি সেরে যায় কিন্তু কিছুদিন পরেই পুনরায় কাশির সংক্রমণ দেখা দেয়।

 শরীরের ওজন কমে যায় এবং ক্ষুধা লাগে না :

ফুসফুসে ক্যান্সার হলে শরীর থেকে অনেক ওজন কমে যেতে পারে কারণ সময় সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষুধার তেমন কোনো চাহিদা থাকে না।

প্রচন্ড ক্লান্তি অনুভব করা :

কোন ব্যক্তি যদি অল্প কাজ করেই প্রচন্ড ক্লান্তি অনুভব করেন সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রেও ফুসফুসে ক্যান্সার দেখা দিতে পারে।

 কাঁধে ব্যাথা :

অনেক সময় কাঁধে বা ঘাড়ে ব্যাথা দেখা দিলে ফুসফুসে ক্যান্সারের সম্ভাবনা থাকে। উপরিউক্ত লক্ষণগুলো যদি কোন ব্যক্তির শরীরে দেখা দেয় তাহলে তাকে অবশ্যই নিজের শরীরের প্রতি অবহেলা না করে তাড়াতাড়ি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

আরও পড়ুন ....

Heart Attack কেন হয় এবং এর লক্ষণ গুলো কি কি ??

কি কি কারণ জরায়ুর ক্যান্সার হতে পারে ??

ব্রেস্ট ক্যান্সার কেন হয় এবং এর লক্ষণ গুলো কি কি ??

ঔষধ ছাড়া কিভাবে প্রাণঘাতি অথবা ফুসফুস ক্যান্সার থেকে বেঁচে থাকা যায় ?

চিকিৎসক বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুসফুসের ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে গেলে সর্ব প্রথম সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং সেই সাথে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোকে মেনে চলতে হবে তাহলে প্রাণঘাতী ফুসফুস ক্যান্সারের  থেকে সহজেই বেঁচে থাকা যায়।

ধূমপান এবং তামাক জাতীয় দ্রব্য পরিহার করা :

ধূমপান এবং তামাক জাতীয় দ্রব্য পরিহার করা
ছবি :সংগৃহিত


বার প্রথমে ধূমপান এবং তামাক জাতীয় দ্রব্য গ্রহণ পরিহার করতে হবে। এবং যে সব ব্যক্তিরা ধূমপান করেন তাদের থেকে নিজেকে সব সময় দূরে রাখতে হবে। কারণ এই ধোঁয়া আপনার নাক দিয়ে ফুসফু

ফুসফুসের ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে বা বেঁচে থাকতে গেলে সের ভিতর ঢুকে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। তাই ধূমপানীয় ব্যক্তির থেকে নিজেকে দূরে রাখাই উত্তম।

কলকারখানা গাড়ির কালো ধোঁয়া এড়িয়ে চলা :

আমাদের শহরাঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে শিল্প কারখানা গাড়ি রয়েছে। যেখান থেকে প্রতিমুহূর্তে সৃষ্টি হচ্ছে ভয়ানক কালো ধোঁয়া। এই কালো ধোঁয়া আমাদের ফুসফুসে প্রবেশ করলে আমাদের ফুসফুসকে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারে। যার ফলে পরবর্তীতে ক্যান্সার হতে পারে। সে জন্য এই ধোঁয়া এড়িয়ে চলতে হবে। এই ধোঁয়া এড়াতে মাস্ক পরিধান করা উত্তম। এবং চেষ্টা করতে হবে এই ক্ষতিকর ধোঁয়ার মাত্রা যাতে কমিয়ে আনা যায়।

ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ থেকে দূরে থাকা :

বাতাসে এবং বিভিন্ন ধরনের কারখানায় কিছু ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ থাকে এসব পদার্থের মধ্যে ক্রোমিয়াম, ক্যাডমিয়াম, অ্যাসবেস্টস ইত্যাদি রয়েছে যে গুলা ফুসফুসের ভিতর ঢুকে ক্যান্সার সৃষ্টি করে এবং এই সব ক্ষতিকর পদার্থ থেকে নিজেকে এড়িয়ে চলতে হলে মাস্ক পরিধান করা উত্তম।

ফুসফুসের প্রদাহজনিত রোগ :

ফুসফুসে বিভিন্ন ধরনের প্রদাহজনিত রোগ রয়েছে এর মধ্যে যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া ইত্যাদি ফুসফুসের রোগ ভালো হয়ে গেলেও এসব রোগের জীবাণু পুনরায় ফুসফুসকে সংক্রমিত করতে পারে এবং স্থানে ক্যান্সার সৃষ্টি হতে পারে। তাই সব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে যাতে পুনরায় জীবাণু সৃষ্টি হতে না পারে।

 দৈনন্দিন খাদ্যাভাস পরিবর্তন :

আমরা প্রায় সময় বাইরের জাঙ্ক ফুড খেয়ে থাকি। এই সব জাঙ্ক ফুডের সাথে বাইরের ক্ষতিকর পদার্থ মিশে বা এই ফুডের অতিরিক্ত তেল-চর্বি জমা হয়ে ফুসফুসে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। এজন্য সব জাঙ্ক ফুড পরিহার করে সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলা একান্তই প্রয়োজন। তাজা ফলমূল এবং শাকসবজি দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় রাখতে হবে। অধিক ক্যারোটিনয়েড সালফোরাফেনযুক্ত খাবার বিভিন্ন ধরনের ফলমূল এবং শাক সবজি যেমন গাজর, কমলা, ক্যাপসিকাম, বাঁধাকপি প্রভৃতি ধরনের খাবারে প্রচুর পরিমানে ক্যারোটিনয়েড সালফোরাফেনযুক্ত নামক যৌগ থাকে। এসব খাবার খেলে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

আপেল :

আপেলে ফ্ল্যাভোনয়েডস নামক যৌগ থাকে। এই ফ্ল্যাভোনয়েডস যৌগ ফুসফুসে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে বাঁধা প্রদান করে। এবং এই ফ্ল্যাভোনয়েডস ফুসফুসকে ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। এজন্য বেশি বেশি করে আপেল খেতে হবে।

রসুন :

রসুনে সালফাইড থাকে। এবং এই সালফাইড ফুসফুস ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। কাঁচা রসুন রান্না করা রসুনের থেকে বেশি উপকারী। জন্য প্রতিদিন কাঁচা রসুন খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।

ব্রকোলি :

সবুজ সবজির মধ্যে ব্রকোলি সব থেকে উপকারী সবজি। কারণ এর মধ্যে সালফ্রোফেন নামক যৌগ থাকে। এই যৌগ আপনার ফুসফুসকে প্রাণঘাতী ক্যান্সারের হাত থেকে রক্ষা করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও এই সবজির থেকে একটা এনজাইম বের হয় যেটা ক্যানসার রোগ প্রতিরোধে অধিক কার্যকরী।

পালং শাক :

পালং শাক ফুসফুস ক্যান্সার প্রতিরোধে অধিক কার্যকরী। 

লাল বেলপেপার :

ফাইটোকেমিক্যাল থাকে, প্রাণঘাতী ফুসফুস ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে লাল বেলপেপার এবং লাল লঙ্কা কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এতে ফাইটোকেমিক্যাল থাকে, যা আপনার ফুসফুসকে এই প্রাণঘাতী ক্যান্সার সৃষ্টি হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।

আরও জেনে নিন..

মানসিক চাপ কেন হয় ?এটা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায় কি ?

নিয়মিত ব্যাম করলে ,ডায়াবেটিস থাকবে নিয়ত্রণে 

চুল পড়া রোধে যে ১০ টি খাবার খুবেই গুরোত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে 

পরিশেষে বলা যায় যে,

ফুসফুস ছাড়া আমরা বাঁচতে পারি না। প্রতিনিয়ত ধূমপান করা, পরিবেশ দূষণ ইত্যাদির ফলে আমাদের ফুসফুস মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এর ফলে ফুসফুস ক্যান্সার ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের জটিল রোগ সৃষ্টি হচ্ছে যেগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে পরবর্তীতে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। তাই ফুসফুস ক্যান্সার থেকে বাঁচতে আমাদের উপরিউক্ত বিষয় গুলো মেনে চলার পাশা-পাশি অবশ্যই চিকিৎসকের পরমর্শ গ্রহন করতে হবে ।

Tags

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
Top